মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিল শুনানির জন্য আগামী ৬ মে দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। ওইদিন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি কার্যতালিকার শীর্ষে থাকবে।

\r\n

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

\r\n

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি, আজহারুল ইসলামের করা রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে আপিলের অনুমতি দেন আদালত। একইসঙ্গে আসামিপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়। উল্লেখ্য, এটি প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা যেখানে রিভিউ থেকে সরাসরি মূল আপিল শুনানির অনুমতি দিয়েছে আদালত।

\r\n

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলামকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেন।

\r\n

রায় অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে সংঘটিত গণহত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন ও লুটপাটসহ ছয়টি ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

\r\n

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আজহারের আইনজীবীরা ১১৩টি যুক্তি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে আপিল করেন। সেই আপিলে ছিল ৯০ পৃষ্ঠার মূল আবেদন ও ২৩৪০ পৃষ্ঠার যুক্তিসমূহ।

\r\n

গত ২৩ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি তার রিভিউ আবেদনের শুনানি হয়। এরপর আদালত তা মঞ্জুর করে আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুতি নেয়।

\r\n

এ বিষয়ে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মো. শিশির মনির।

\r\n

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর আপিল বিভাগ আজহারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন আজহারুল ইসলাম।

\r\n

জামায়াতে ইসলামী এই রায়কে ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে।