বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জামায়াতে ইসলামীর নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রশাসনকে দলের নিয়ন্ত্রণে আনার মতো মন্তব্য অনভিপ্রেত এবং দায়িত্বশীল অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গত। ভবিষ্যতে এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।


চট্টগ্রামে এক সভায় শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “যার যার নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনকে আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, বসবে, গ্রেপ্তার করবে, মামলা করবে।” এই বক্তব্য নিয়েই আপত্তি জানায় অ্যাসোসিয়েশন।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পেশাদার, নিরপেক্ষ ও নৈতিক সিভিল সার্ভিসের অংশ। তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়ন, আইনানুগ কাজ করা এবং নির্বাচনসহ সব ক্ষেত্রে সমান সুযোগ, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও উল্লেখ করা হয়।


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অ্যাসোসিয়েশন সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা প্রদর্শনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। তাদের ভাষায়, এটিই প্রশাসনের পরিচয়ের মূল ভিত্তি এবং পেশাগত নৈতিকতার অংশ।


এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানায় সংগঠনটি। তাদের মতে, এটি পুলিশকে আরও গণমুখী ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা একটি স্বাধীন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস কমিশন গঠনের দাবি জানায়।


সংগঠনের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম এবং মহাসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, অতীত সরকার প্রশাসনের ওপর অযাচিত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছিল, যা পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ন করেছে। জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাত ও হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা জরুরি।


তাদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা নানা চাপ ও নির্দেশনার মুখে পড়েন, যা নিরপেক্ষতা, দক্ষতা ও জনবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই পুলিশ কমিশনের মতোই প্রশাসনের জন্য একটি স্বাধীন, আইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান—অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস কমিশন—গঠন এখন প্রয়োজন।