ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনটি ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–কে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় জোটে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (রাত ১০টা) নগরের বহদ্দারহাট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপি প্রার্থীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে আয়োজক হিসেবে উল্লেখ করা হয় ‘১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট, চট্টগ্রাম অঞ্চল’। সেখানে বলা হয়, ১০–দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে চট্টগ্রামে এনসিপির একমাত্র আসন চট্টগ্রাম-৮–এ জামায়াত–সমর্থিত প্রার্থীর অবস্থানের প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।


সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম-৮ আসনের এনসিপি প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ গতকাল ওই আসন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।


জামায়াতের কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বোয়ালখালী উপজেলা শাখার নায়েবে আমির মো. আবু নাছের এখনো মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।


সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ বলেন, ১০–দলীয় ঐক্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনে মো. জোবাইরুল হাসান আরিফই চূড়ান্ত প্রার্থী। জোটের ঐক্য রক্ষায় তিনি নিজে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন এবং জামায়াতের প্রার্থীকেও একই সিদ্ধান্ত মানার আহ্বান জানান।


এনসিপির চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক ও প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, ঐক্য ছাড়া জুলাইয়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেই ১০–দলীয় জোট গঠন করা হয়েছে। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত প্রার্থী ছাড়া অন্যরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। তবে এ আসনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


শরিক দলের প্রার্থী থাকা জোটে প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জোট ছাড়ার কোনো প্রশ্ন নেই। তবে জাতীয় স্বার্থে আঘাত এলে পরিণতি যেকোনো কিছু হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জামায়াতের প্রার্থী আবু নাছেরকে পাশে নিয়েই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালানো যাবে।


স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ প্রসঙ্গে জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, এটি মূলত ভুল–বোঝাবুঝি। জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তারা জানিয়েছেন, আবু নাছের চট্টগ্রামের বাইরে থাকায় সময়মতো মনোনয়ন প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি।


রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়েছে। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির নগর শাখার আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ এমদাদুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল আলম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান।


এবারের নির্বাচনে ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দলগুলো হলো জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।


জামায়াত সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৯টি তারা নিজেদের জন্য রাখে। এনসিপিকে দেওয়া হয় একটি আসন এবং বাকি আসনগুলো শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে একজন প্রার্থী রেখে অন্যরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করার কথা থাকলেও শেষ দিনে তিনটি আসনে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।


চট্টগ্রাম-৮ ছাড়াও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড–নগরের আংশিক) এবং চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনেও জোটের একাধিক প্রার্থী রয়ে গেছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের মো. আনোয়ার ছিদ্দিকের পাশাপাশি বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ এবং চট্টগ্রাম-৭ আসনে জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিমের বিপরীতে এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।


এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, কয়েকটি আসনে এ ধরনের পরিস্থিতির কথা জানা গেছে। তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। আলোচনা শেষে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।