জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, “তাদের মুখে এক কথা, কাজে আরেকটা। আমাদের সামনে বলে এক কথা, আর গোপনে গিয়ে বৈঠক করে আমেরিকার দূতাবাসে। মুখে এক কথা, আবার গোপনে ভারতের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক হতেই পারে, কিন্তু গোপনে কেন? এই গোপনের মধ্যেই সব রহস্য রয়েছে। দেশের মানুষ এখন সব বুঝে গেছে।”
শুক্রবার রাতে নরসিংদী সদর উপজেলার ঢাকা–সিলেট মহাসড়কসংলগ্ন পুলিশ লাইনস এলাকায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজাউল করীম বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকার সময় জনগণের চাওয়া-পাওয়া ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি। “যারা আগে পারেনি, তারা আবার ক্ষমতায় এসে কীভাবে উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে? বাংলাদেশের মানুষ আর বোকা নয়, তাদের আর ধোঁকায় ফেলা যাবে না,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী গত ৫৪ বছর দেশ পরিচালিত হয়নি। “৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা দেশকে নতুনভাবে বিনির্মাণ করতে চেয়েছিলাম। ইসলাম শক্তিশালী হবে, মানবতা রক্ষা পাবে- এই আশায় ইসলামের পক্ষে একটি সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল,” বলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির।
তার দাবি, সমঝোতার নেতৃত্ব ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে মতবিরোধের কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জামায়াতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “একশ্রেণির ক্ষমতালোভী মানুষ ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রের কথা বলছে, অথচ একই প্রচলিত আইনে দেশ চালাতে চায়। ৫৪ বছর এই নিয়মে দেশ চলেছে- ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র কি বাস্তবায়ন হয়েছে? আবার এই নিয়মেই কীভাবে ইনসাফ কায়েম করবে? এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা দেশ ও ইসলামকে ভালোবাসেন, সবাই একত্র হয়ে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিলে পরিবর্তন সম্ভব। এখন আর চুপ থাকার সময় নেই।”
নরসিংদী-১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও জেলা সভাপতি আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী ছাইফুল্লাহ প্রধান, নরসিংদী-৩ আসনের প্রার্থী ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া, নরসিংদী-৫ আসনের প্রার্থী বদরুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।





