জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও সাজানো আদালতের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ (বিচারিক হত্যা) করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

\r\n

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

\r\n

শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের দলের ১১ জন শীর্ষ নেতা সাজানো আদালত ও মিথ্যা সাক্ষীর ভিত্তিতে হত্যা করা হয়েছে। এটি ছিল একেবারেই পরিকল্পিত বিচারিক হত্যাকাণ্ড।” তিনি এটিএম আজহারুল ইসলামকে খালাস দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়কে ‘সত্যের জয়ের প্রমাণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

\r\n

তিনি বলেন, “এই রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, আমাদের মজলুম নেতা আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, আজকে তিনি ন্যায়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন।”

\r\n

জামায়াত আমির আরও অভিযোগ করেন, “এই মামলাগুলো পরিচালনার সময় সীমাহীন জালিয়াতি করা হয়েছে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তাঁর বইয়ে স্বীকার করেছেন, বিচার বিভাগ ও সরকার মিলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।”

\r\n

তিনি বলেন, “দুইটি টর্চার সেল—সেফ হোম ও সেফ হাউস—তৈরি করে দিনের পর দিন নির্যাতন চালানো হয়েছে। মিথ্যা সাক্ষী তৈরি করতে সেফ হাউসে রাখা হতো। এই বিষয়গুলো মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।”

\r\n

শফিকুর রহমান বলেন, “বিচারের নামে এখানে হয়েছে ‘জেনোসাইড টু দ্য জাস্টিস’। এমনকি ব্রিটেনের এক আদালতের রায়ে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টও আজ বলেছে, এটি ছিল ‘মিসক্যারেজ অব জাস্টিস’।”

\r\n

তিনি বলেন, “আমরা দেশবাসীর দুঃখ-কষ্টে পাশে থেকেছি, কিন্তু মনে করি আমরা আমাদের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতে পারিনি। যারা আমাদের কোনো আচরণে কষ্ট পেয়েছেন, তাঁদের কাছে আমরা বিনা শর্তে ক্ষমা চাই। দল হিসেবে আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে নই।”

\r\n

তিনি আরও বলেন, “আল্লাহর ইচ্ছায় এবং জনগণের সমর্থনে যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাই, তাহলে আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি ও বৈষম্যের অবসান ঘটাব। আমরা জনগণের সঙ্গে নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

\r\n

জামায়াত আমির বলেন, “আমাদের নেতারা বেঁচে থাকলে জাতিকে সততা, দক্ষতা ও দূরদর্শিতার আলো দেখাতে পারতেন। কিন্তু ক্যাঙারু কোর্টের মাধ্যমে একে একে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। এটা শুধু একটি দলের নেতৃত্ব ধ্বংস নয়, বরং একটি জাতিকে নেতৃত্বহীন করার ষড়যন্ত্র।”

\r\n

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, জাতির বার্নিং ইস্যুগুলো সমাধানে সকলে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে সোচ্চার হয়