নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট গঠনের তৎপরতা জোরদার হয়েছে। বিএনপি ইতোমধ্যে তাদের শরিকদের সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতা সম্পন্ন করেছে। এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামী’র মধ্যে নির্বাচনী জোট গঠনের আলোচনা অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে এই জোট গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এনসিপির নারী নেত্রীরা।
এনসিপি ইতোমধ্যে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে শতাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যেই জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা আবদুল কাদের দাবি করেছেন, এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে সরাসরি জোট গঠনের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই জোটের ঘোষণা আসতে পারে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, শুরুতে এনসিপি ৫০টি আসন দাবি করলেও দরকষাকষির পর তা কমে ৩০টি আসনে এসে দাঁড়িয়েছে। এই শর্তে এনসিপি বাকি ২৭০ আসনে প্রার্থী দেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ৮ দলীয় ইসলামী জোটের সূত্রগুলো জানিয়েছে, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। মনোনয়নপত্র উত্তোলনের শেষ দিনের আগেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও আসনভিত্তিক সমঝোতা হবে বলে জোট নেতারা আশা করছেন।
তবে এই জোট গঠনের ক্ষেত্রে এনসিপির অভ্যন্তরে তীব্র বিরোধিতা রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নারী নেত্রীরা স্পষ্ট করে জানান, জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে তারা সম্মিলিতভাবে দল ছাড়বেন। এ হুমকির কারণে দলীয় নেতৃত্ব এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না।
এনসিপির ভেতরে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে মতপার্থক্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। জামায়াত-বিরোধী অংশের নেতা মীর আরশাদুল হক ইতোমধ্যে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।
এদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন এনসিপির জুনিয়র নেত্রী মুনিরা শারমিনও। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “মাইনাসের গেইম খেলো না বন্ধু, আমলনামা সুরক্ষিত আছে। সততার শক্তিকে চ্যালেঞ্জ কইরো না।”





