চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে ‘জুলাই সনদ’। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন সংবিধান প্রণয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণায় মূল আকাঙ্ক্ষা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে।
শুক্রবার দলীয় অবস্থান তুলে ধরে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আমরা মাঠের কর্মসূচি গ্রহণ করব। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আন্দোলনে নামতে হবে।”
\r\nদলটির নেতাদের অভিযোগ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের কারণে ঐকমত্য হয়নি। ফলে যে খসড়া সনদ তৈরি হয়েছে, তা আংশিক ও ধোঁয়াশাপূর্ণ। কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরিবর্তে একতরফা সুপারিশ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
\r\nএনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। না হলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই এর ফয়সালা করতে হবে। শুধু টেবিলের ঐকমত্য নয়, রাজপথের ঐকমত্যও দেখাতে হবে।”
\r\nসূত্র জানায়, ইতোমধ্যে এনসিপি সারাদেশে পদযাত্রা, সমাবেশ ও উঠান বৈঠক কর্মসূচি করেছে। এবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ, সমাবেশসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে দলটি।
\r\nনেতাদের ভাষ্য, এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অন্তর্বর্তী সরকার গণহত্যার বিচার ও মৌলিক সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন সংবিধান প্রণয়নেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অথচ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা যে অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় এনেছিল, তার প্রধান দায়িত্ব ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ ও রাষ্ট্র সংস্কার।
\r\nএনসিপি মনে করছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ না করে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করবে। আর সেই সংকট এড়াতেই তারা রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।





