বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, “জুলাই সনদ যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে এই অভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধারা সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত হবে।” সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শো-তে তিনি এ মন্তব্য করেন।


মাসুদ বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই আমরা বিচার ও সংস্কারের প্রশ্নে একটি মৌলিক বক্তব্য দিয়ে আসছি। জুলাই সনদ হলো সেই দাবির রক্ষা কবচ। কিন্তু যদি এই সনদ অবহেলিত হয় বা বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে গণ-অভ্যুত্থানকেই সন্ত্রাস হিসেবে দেখা হবে। আমি নিজেও তখন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকব।”


তিনি জানান, “জুলাই সনদ শুধু একটি কাগজ নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনের গ্যারান্টিপত্র। যেহেতু বর্তমান সরকার কোনো নির্বাচন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নয়, বরং অভ্যুত্থানের ধারায় এসেছে— তাই সনদের মধ্যে করণীয়, বর্জনীয়, যোগ-বিয়োগ সবকিছুই থাকা উচিত।”


তিনি অভিযোগ করেন, সনদের খসড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আগেভাগেই দেওয়া হলেও জামায়াতে ইসলামীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলকে তা দেওয়া হয়নি। “চেয়ে নেওয়ার মতো দেউলিয়া সংগঠন জামায়াতে ইসলামী নয়,” — বলেন মাসুদ।


মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে মাসুদ বলেন, “ঘটনার রাতে চারটি দলকে ডাকা হয়েছিল রাজনৈতিক আলোচনা করতে। অথচ পরদিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের নামে এক নেতা বললেন— কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হবে! কী আজব দেশে আমরা বাস করি!”


টক শো-তে উপস্থিত সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফ কায়সার বলেন, “মাইলস্টোন দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার একচেটিয়া বৈঠক এবং নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া— অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও দৃষ্টিকটু।”


তিনি বলেন, “প্রধান চারটি দল নির্ধারণের দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের নয়। বরং আমরা দেখেছি এমন দলের প্রতিনিধিদেরও সেখানে রাখা হয়েছে, যারা অতীতে শেখ হাসিনার বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে ফ্যাসিবাদকে বৈধতা দিয়েছিল।”


আশরাফ কায়সার আরও বলেন, “জুলাই সনদ শুধু ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা নয়, বরং এটি সরকারের বৈধতা অর্জনের মাধ্যম। এই সরকার বিপ্লবী নয়, বরং একটি এলোমেলো সরকার— যার গঠনের প্রথম ৭২ ঘণ্টায় কী ঘটেছিল, তা জাতিকে জানানো উচিত।”


তিনি মন্তব্য করেন, “সরকার গঠনের সময় যে ভ্রান্তিগুলো হয়েছিল, তার প্রতিফলনই আমরা এখন দেখছি। সংস্কারের যে ন্যূনতম প্রত্যাশা সচিবালয় বা পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে ছিল, তাও বাস্তবায়িত হয়নি। July সনদ এখন দায়মুক্তি ও বৈধতার রক্ষাকবচ— এটা ছাড়া কিছুই নেই।”


আশরাফ কায়সার বলেন, “যদি জুলাই সনদে গণ-অভ্যুত্থানের সংস্কারের রূপরেখা স্পষ্টভাবে না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ দাঁড়িয়ে বলতে পারবে না— এটাই ছিল জনগণের প্রত্যাশা।”


উল্লেখ্য, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার আসলেই কি স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক, নাকি একটি সংকীর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।