নিউইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে উদীয়মান প্রগতিশীল নেতা জোহরান মামদানি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পূর্ণ বিপরীত হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার মতে, \"আমি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন—একজন প্রগতিশীল মুসলিম অভিবাসী, যে সত্যিকারের বিশ্বাস থেকে লড়ে।\"

এই মন্তব্য শুধু প্রতীকী নয়, বরং মামদানির রাজনৈতিক কৌশল, বার্তা ও সমর্থক জোট ট্রাম্পের ধারা থেকে একেবারেই ভিন্ন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত তৃণমূল-ভিত্তিক প্রচারাভিযান যেমন প্রচলিত রাজনীতির কাঠামো ভেঙে দিয়েছে, তেমনই তিনি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠ এবং প্রথম মুসলিম মেয়র হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন।

ফোর্বস এবং সরকারি তথ্যমতে, মামদানি বর্তমানে আনুমানিক ২ থেকে ৩ লাখ ডলারের সম্পদের মালিক। তার মূল আয়ের উৎস নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য হিসেবে বাৎসরিক ১ লাখ ৪২ হাজার ডলারের বেতন। অতীতে 'ইয়াং কার্ডামন' ছদ্মনামে র‍্যাপ সংগীত করতেন, যেখান থেকে বছরে প্রায় ১,২৬৭ ডলার রয়্যালটি পান। এছাড়া তিনি উগান্ডার জিনজা শহরে চার একর জমির মালিক, যার বাজারমূল্য আনুমানিক দেড় থেকে আড়াই লাখ ডলার।

তবে তার কোনো ব্যবসা, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য সম্পদ নেই—যা ট্রাম্পের বিপরীত এক রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে।

জন্ম উগান্ডায়। বাবা মাহমুদ মামদানি একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। মা মীরা নায়ার, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা। মামদানি প্রায় ২৫ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। এরপর নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকা থেকে স্টেট অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হন।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদের জন্য তার প্রচারাভিযান সম্পূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে ব্যক্তিগত ছোট অনুদানের ভিত্তিতে। এখন পর্যন্ত তিনি ৭০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন, যার উৎস ১৬ হাজারের বেশি দাতার ক্ষুদ্র অনুদান। এ থেকে তার কর্মজীবী, অভিবাসী এবং প্রগতিশীল জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা স্পষ্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতি যেখানেই ধনীদের করছাড়, সীমান্ত নিরাপত্তা ও পুলিশ শক্তিশালীকরণের পক্ষে, মামদানি সেখানে দাঁড়িয়েছেন সামাজিক আবাসন সম্প্রসারণ, ভাড়াবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন বিনামূল্যে করার মতো সমাজমুখী সংস্কারের পক্ষে।

ট্রাম্পের বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদ ও কর্পোরেট ব্যাকিংয়ের বিপরীতে মামদানি তুলে ধরছেন অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ, অভিবাসী অধিকারের সুরক্ষা এবং সংহতির বার্তা।

মধ্যপ্রাচ্য নীতিতেও দুজনের অবস্থান বিপরীত। মামদানি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের একপেশে অবস্থানের কড়া সমালোচক। অন্যদিকে, ট্রাম্প ছিলেন কট্টর ইসরায়েলপন্থী অবস্থানে।

মামদানিকে ঘিরে ইসলামভীতি ও বর্ণবাদী বক্তব্যও উঠে আসছে প্রচারে। নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কাউন্সিলর ভিকি পেলাডিনো তাকে দেশচ্যুতির দাবি তুলেছেন। জবাবে মামদানি বলেন, \"মৃত্যু হুমকি, বৈষম্য আর দেশচ্যুতির দাবি—এগুলো ট্রাম্প ও তার অনুসারীরা তৈরি করেছে। এই হামলা আমাদের শহরের মূল্যবোধের ওপর আঘাত। যথেষ্ট হয়েছে।\"