স্বাধীনতার পর এই প্রথম জয়পুরহাট–১ আসনে ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দলটির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে এ বিজয় ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
স্বাধীনতার পর একাধিকবার নির্বাচনে অংশ নিলেও এতদিন জয় অধরাই ছিল জামায়াতে ইসলামীর জন্য। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির প্রার্থী আব্বাস আলী খান তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও একই প্রার্থী তৃতীয় স্থানেই অবস্থান করেন।
পরবর্তীতে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী ছিল না।
২০১৪ সালের পর থেকে জয়পুরহাট জেলার দুটি সংসদীয় আসন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর দখলে ছিল। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে এবার জয়পুরহাট–১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এই বিজয়কে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাট-১ আসনের নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে জয় নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ । এই আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা।
রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী ফজলুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৯২ ভোট।
অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী মাসুদ রানা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ ভোট।
ফলাফল অনুযায়ী, ৯ হাজার ৮৮৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন জামায়াত প্রার্থী ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ ।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদ বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতা ভোগের মাধ্যম নয়; এটি একটি আমানত। জনগণ আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা আমি সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পালন করব । জনগণের একটি টাকাও যেন অপচয় বা আত্মসাৎ না হয়, সে বিষয়ে আমি কঠোর থাকবো।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সমাজে দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা। এই দুর্নীতির সংস্কৃতি ভাঙতে হলে প্রথমে নিজেকে সৎ রাখতে হবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটারদের অংশগ্রহণ ও জনসমর্থনের এই নতুন ধারা আগামী দিনে জয়পুরহাটের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।





