টাইম ম্যাগাজিনের বছরের সেরা ১০০ ছবির তালিকায় আমির হামজার নাম যোগ হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশি আলোকচিত্রশিল্প। গত এক দশকে কেএম আসাদ, তসলিমা আক্তার, মুনিরুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির ছবি গ্লোবাল মিডিয়ায় জায়গা করে নিয়েছে। শিল্প বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, গল্প বলার ক্ষমতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংকটমুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বাংলাদেশের ফটোগ্রাফারদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।

শিল্পকলা একাডেমিতে প্রথমবারের মতো আলাদা একটি বিভাগ হিসেবে ‘ফটোগ্রাফি’ চালুর ঘোষণা শিল্পচর্চায় নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতদিন দেশে ফটোগ্রাফি ছিল মূলত স্বেচ্ছাচর্চার ওপর নির্ভরশীল। নতুন বিভাগ চালুর ফলে কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রদর্শনীর সুযোগ বাড়বে। তরুণ ফটোগ্রাফাররা এটিকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে কর্মরত আমির হামজা একমাত্র বাংলাদেশি নন, যাঁরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত কাজ করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রয়টার্স, এএফপি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ নানা বৈশ্বিক সংস্থায় বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকজন তরুণ যোগ দিয়েছেন। তাঁরা বাংলাদেশ নিয়ে তৈরি খবরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ঘটনাও কাভার করছেন।

আমির হামজার নির্বাচিত ছবিটি প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দিদারুল ইসলামের জানাজার দৃশ্য ধারণের পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে হামজার সহকর্মীরা বলেছেন, ঘটনাস্থলে মানুষের শোক, হতাশা আর নীরবতার সংমিশ্রণই মুহূর্তটিকে বিশেষ করে তুলেছিল। ছবিটি পাঠকদের মনে গভীর আবেগ তৈরি করেছে বলে জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া।

বহুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ফটোগ্রাফি গ্রুপ ও প্রতিযোগিতা তরুণদের আকর্ষিত করছে। নতুন প্রজন্ম মোবাইল, ডিএসএলআর এবং ড্রোন ব্যবহার করে নিত্যনতুন গল্প বলার চেষ্টা করছে। তাদের কাজের অনেকটাই এখন আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও প্রদর্শনীতে জায়গা পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশি তরুণদের আরও বড় ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।