যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রমে ব্যাপক কাটছাঁটের ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হতে পারে, এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই শিশু।

\r\n

এটি সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা হয়েছে। বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৈদেশিক সহায়তায় কাটছাঁটের কারণে বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট তীব্র হতে পারে, যার ফলে বহু মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে।

\r\n

স্পেনে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সম্মেলনের আগে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো, যেখানে বৈশ্বিক নেতারা সহায়তা কার্যক্রমের পুনরুজ্জীবন নিয়ে আলোচনা করবেন।

\r\n

২০১৭ সালে হোয়াইট হাউসে আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ইউএসএআইডি (মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা)-এর কার্যক্রমে ব্যাপক কাটছাঁট করে, যা গত বছর পর্যন্ত চলমান ছিল। ইউএসএআইডি বৈশ্বিক মানবিক সহায়তায় ৪০ শতাংশেরও বেশি তহবিল সরবরাহ করত।

\r\n

গবেষণার সহলেখক, বার্সেলোনা ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ (আইএসগ্লোবাল)-এর গবেষক ডেভিড রাসেলা বলেন, \"এ ধরনের তহবিল কমিয়ে দেওয়ার ফলে, অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন হতে পারে, যার পরিণতি বিশ্বব্যাপী মহামারি বা বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের মতো হতে পারে।\"

\r\n

গবেষকরা ১৩৩টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, ২০০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইউএসএআইডি’র সহায়তা পেয়ে ৯ কোটি ১০ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে এই সহায়তা কমানোর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি হতে পারে, যার মধ্যে ৪৫ লাখেরও বেশি শিশু রয়েছে।

\r\n

গবেষণার ফলাফলে আরো দেখা যায় যে, মার্কিন সরকারের ঘোষিত ৮৩ শতাংশ তহবিল হ্রাস কার্যকর হলে, এই বিশাল প্রাণহানি হতে পারে। এ পরিমাণ মৃত্যু, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নিহত সেনাদের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি।

\r\n

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানবিক সহায়তার তহবিলের সংকোচন সরাসরি স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে এবং এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও শান্তির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।