বৃহস্পতিবার দিনভর ঘুরে উপজেলার দুওসুও এবং বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, বুধবার রাতে কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সাথে বাতাসের কারণে ভুট্টা ও গমক্ষেত নুয়ে পড়েছে। ভুট্টার ক্ষতি হলেও গমক্ষেতের তেমন ক্ষতি হবে না বলে দাবি করছেন কৃষি বিভাগ।
দুওসুও ইউনিয়নের জিয়াখোর গ্রামের কৃষক দিনেশ শর্মা জানান, ৮ বিঘা ভুট্টাক্ষেতের মধ্যে ৭ বিঘার প্রায় ৬ বিঘায় মাটিতে ভেঙ্গে পড়েছে। এসব ভুট্টার গাছ দাড়ানোর সুযোগ খুব কম। যেসব গাছ দাড়িয়ে আছে, হালকা শিলা বৃষ্টিতে পাতাগুলো ছিড়ে গেছে। অর্ধেক ফলন পাওয়া যেতে পারে। দুই লক্ষ টাকার মত ক্ষতি হয়ে গেলো।
ভেঙ্গে পড়া ভুট্টার গাছ জমি থেকে তুলে ছাগলের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন নাপিতপাড়া গ্রামের বিমলা দেবী। তিনি জানান, সকাল থেকে দুবার এলাম। ভুট্টারগাছ গুলো দেখলেই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। গমের গাছগুলো নুয়ে পড়েছে, দানা চেপে যাওয়ার কারণে ক্ষতি হবে না। কিন্তু ভুট্টার গাছগুলো একবারে শেষ। এখন ছাগলকে খাওয়ানোর জন্য তুলে নিয়ে যাচ্ছি।
কুশলডাঙ্গী এলাকার কৃষক গোলাম রব্বানী জানান, ভেঙ্গে পড়া ভুট্টার উপর পানি জমে গেছে। শুকিয়ে না গেলে গাছগুলো পচে যাবে। কৃষি বিভাগের লোকজন দেখতে এসেছিলে, শুনলাম রাতে আবার বৃষ্টি হবে। আর মনে হয় শেষ রক্ষা হলো না।
এদিকে ঝড়ের কারণে দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন এলাকার পেয়াঁজ বীজের চাষীরা। চাড়োল গ্রামের পেঁয়াজ বীজ চাষী দবিরুল ইসলাম বলেন, ৫৫ বিঘা জমিতে অর্ধকোটি টাকা খরচ করেছি। পরাগায়ন শুরু হয়েছে। মাত্র ৩-৪ সপ্তাহ পরেই ঘরে তুলবো কালো সোনা খ্যাত পেয়াজের বীজ। ঝড়ের কবলে পড়ে আমরা সর্বশান্ত হয়ে যাবো।
উপজেলা কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌস বলেন, মাঠ পর্যায়ে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। ঝড়ে ভুট্টাক্ষেতের আংশিক ক্ষতি হলেও বোরো চাষীরা উপকৃত হয়েছে। পেয়াজ বীজের চাষীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে পচন রোধে স্পেসহ নানা পরামর্শ দিয়ে কাজ করছে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।