সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতৃত্বে আসছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হবেন। উপনেতা পদে হতে পারেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের বৈঠকের পর। জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম জানান, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো বৈঠক হয়নি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি আসন, এনসিপি ৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি আসন নিয়ে ১১ দলীয় জোটের মোট আসন সংখ্যা ৭৭। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন থেকে ১ জন এবং ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এই সব আসন বরাবরের মতো বিরোধী দলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান পুরো বিরোধী দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন, যা পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদার সমতুল্য। উপনেতা পদে আলোচনা চলছে চারজনের মধ্যে; এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে নাহিদ ইসলাম। জামায়াত থেকে যদি উপনেতা করা হয়, সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন: ১৯৮৬ সালের সংসদীয় দলের নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এটিএম আজহারুল ইসলাম ও ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এদের মধ্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সম্ভাবনা বেশি।
বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও হুইপ পদে আছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং সেক্রেটারি ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। চট্টগ্রামের শাহজাহান চৌধুরী ও সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানজনক পদ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডেপুটি স্পিকার হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং ব্যারিস্টার আহমদ বিনকাসেম আরমান; এর মধ্যে নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনা বেশি।
১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ হতে পারেন হুইপ। মাওলানা এটিএম মাসুম জানিয়েছেন, এখনও সংসদের পদগুলো নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, এবং জোটকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে শরিকদের জন্য কিছু ছাড় দিতে হবে।





