ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র ও ভাসমান দোকানকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগ তুলে ডাকসু প্রতিনিধি ও প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের স্বাক্ষরিত লিখিত আবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই দাবি জানানো হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা ভাসমান দোকানগুলোকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশে চাঁদাবাজির একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা দোকানগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর ও উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দায় এড়াতে সংশ্লিষ্ট ডাকসু প্রতিনিধিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ ছড়াচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে সহিংস মব তৈরির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে প্রায় দেড় মাস আগের একটি ভিডিও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সম্পাদনা করে অনলাইনে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ আগস্টের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
ছাত্রদলের দাবির মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দোকান পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কার্যকরভাবে প্রচার করা এবং চাঁদাবাজি, দোকান ভাঙচুর ও উচ্ছেদের সঙ্গে জড়িত বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি বা প্রশাসনের যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোববার রাত ৮টার মধ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়া এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে ক্যাম্পাসের ভাসমান দোকানে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে তর্ক ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। পরে রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করে প্রতিবাদ করেছেন।





