গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদমুক্তির এক বছর না যেতেই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে এমন অভিযোগ তুলেছেন ফার্মেসি বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্ট্রাল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’-এর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফার্মেসি বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র ও তৎকালীন ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের লালবাগ থানার সহ-সভাপতি আরমান শুভ। অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে ফার্মেসি বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দেন। 

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি এখনও পর্যন্ত ফার্মেসি বিভাগে কোনো অফিসিয়ালি অনুমোদিত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়নি, ফলে তার এই পরিচয় প্রশ্নবিদ্ধ।

একই বিভাগের আরেক প্রাক্তন ছাত্র জালাল উদ্দিন রাকিব ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহ-সভাপতি। অভিযোগ আছে, এই দুইজন অতীতে ফার্মেসি বিভাগসহ পুরো ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। জুলাই আন্দোলনের সময় তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন এবং আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সশস্ত্র অবস্থান নেন। 


বর্তমান শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের ফার্মাসিস্টদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম’-এর নতুন কমিটিতে আরমান শুভকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জালাল উদ্দিন রাকিবকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রাখা হয়। তাদের মতে, এটি ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের এক দৃষ্টান্ত।

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিরোধী ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রোগ্রামে দেখতে চাই না। যদি এর ব্যতিক্রম ঘটে, তার দায়ভার কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।”

তারা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।