ঢাকা-৬ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা কাগজপত্র যাচাই শেষে নিজেই মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন।


রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শফর উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর কার্যালয়ে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন।


মনোনয়ন জমা শেষে ইশরাক হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে। আগেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি পরিস্থিতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং সব রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।


তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিক যেন নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ও বাধাহীনভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।


নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা এবং দলীয় কর্মকাণ্ড চাঙ্গা হওয়া ইতিবাচক হলেও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে। তবে ঢাকা-৬ আসন নিয়ে তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, এই আসনের সব থানা ও ওয়ার্ডের সিনিয়র নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে তার সঙ্গে কাজ করছেন।


ঢাকা-৬ আসনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি স্মরণ করেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার বাবা মরহুম সাদেক হোসেন খোকা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ৩০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।


নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেষ দিন পর্যন্ত এমন শঙ্কা থেকেই যায়। তবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জনগণের ঐক্যের সামনে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।


তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে তরুণরা প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। এ কারণে বিএনপি তরুণদের প্রস্তুত করতে বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। ছাত্রদল ও যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলো এ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে।


তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, আপনারা অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। কোনোভাবেই আপনার মূল্যবান ভোট নষ্ট করবেন না। যাকে ভোট দেবেন, সে সিদ্ধান্ত আপনাদের। আমরা চাই জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটুক।


তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোতে আইন ও ব্যালটের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। আমি যদি কোনো অন্যায় করি, আমাকেও যেন জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়। সে জন্য তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।