চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকাগুলোর জন্য ভূমিধসের সতর্কতা এবং উপকূলীয় জেলাগুলোর জন্য জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

\r\n

আজ শুক্রবার সকালে আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ২৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা থেকে ১৩০ কিলোমিটার এবং পায়রা থেকে ১১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

\r\n

নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য দেখা দিয়েছে। এর ফলে সমুদ্র বন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সাগর উত্তাল রয়েছে।

\r\n

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

\r\n

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ বশির আহমেদ জানিয়েছেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

\r\n

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী (৪৪-৮৮ মিমি) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিমির বেশি) বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

\r\n

এ ছাড়া নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং এর আশপাশের দ্বীপ ও চরাঞ্চলগুলো ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

\r\n

আবহাওয়া অধিদপ্তর সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।