আগস্ট মাসকে ঘিরে দেশে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ—এমনটাই উঠে এসেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করতে এবং ক্ষমতায় ফেরার পথ তৈরি করতে দলটি দেশ-বিদেশে বিস্তৃত কৌশল ও ক্যাডার প্রস্তুতির মাধ্যমে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির ছক কষছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকীকে সামনে রেখে ঢাকা ও দিল্লিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এনজিও প্রশিক্ষণের আড়ালে অন্তত ৪০০ ক্যাডারকে ‘নাশকতার প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে গোপালগঞ্জকে ‘সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম’ বানিয়ে সেখানে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র গড়ে তোলা হয়েছে।

সূত্র মতে, ভারতে অবস্থানরত পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক মন্ত্রী-এমপি, আমলা, সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এসবি’র সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমানসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই পরিকল্পনার নেতৃত্বে রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে বসে সমন্বয় হচ্ছে কৌশলগত নির্দেশনার। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জেনারেল মুজিব এবং এসবি মনিরুল দিল্লিতে একটি কার্যালয় থেকে এই তৎপরতা চালাচ্ছেন। ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে গিয়ে তারা এখন দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং ভারতে থাকা অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

আন্দোলনের নামে সংঘাত তৈরির জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের কাজ হবে ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলে নাশকতা চালানো। প্রশিক্ষিত ক্যাডারদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এড়িয়ে অপরিচিত অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, অর্থের জোগান দেওয়া হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে ভারত থেকে এবং দেশে থাকা কম বিতর্কিত নেতাদের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুইজারল্যান্ডে অবস্থানরত সামিট গ্রুপের মালিক আজিজ খানকে।

গত ৮ জুলাই বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে একটি কর্মশালার নামে প্রশিক্ষণ চলাকালে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের একজনের বাড়ি গোপালগঞ্জে।

২২ জুলাই সচিবালয়ে হামলা ও শাহবাগে দখল পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িতদেরও গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতার হওয়া অভিষেক সিকদারসহ চারজনের অনলাইন যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, বিদেশ থেকে পাঠানো নির্দেশে তারা হামলা চালিয়েছে। ধৃত শাকিল ও খোরশেদ আলমের সঙ্গে ছাত্রলীগের সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি গোয়েন্দা সংস্থার।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম শানতু জানান, “দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত।”

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, “যেখানেই অপরাধীরা থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। জনগণের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে।”

এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, “সচিবালয়ে হামলা এবং দিয়াবাড়ীর বিক্ষোভে উসকানি ও মদতদাতারা রেহাই পাবে না। ষড়যন্ত্র যত গভীরই হোক না কেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।”

গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোর সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, আগস্টকে ‘আবেগের মাস’ হিসেবে ব্যবহার করে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা তৈরির চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয় প্রস্তুতিতে বড় ধরনের অঘটন ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।


সূত্র:  আমার দেশ