বাংলাদেশে গডফাদারতন্ত্র, মাফিয়াতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শনিবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের লালদীঘির পাড়ে পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, “গত ফ্যাসিস্ট আমলে কক্সবাজার হয়ে উঠেছিল সন্ত্রাস ও মাদকের অভয়ারণ্য। ঠিক যেমন নারায়ণগঞ্জে গডফাদার ছিল, কক্সবাজারেও ছিল। সারা দেশে গডফাদারতন্ত্র কায়েম ছিল। আজ আমরা তা বিলুপ্ত করেছি, এবং ভবিষ্যতে আর কোনো গডফাদারের আবির্ভাব ঘটতে দেব না।”
‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সমাবেশের আগে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রা বেলা পৌনে দুইটার দিকে শহীদ দৌলত ময়দানে এসে শেষ হয়।
পদযাত্রায় অংশ নেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা প্রমুখ। পদযাত্রায় ব্যবহৃত স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল— ‘কথায় কথায় বাংলা ছাড়, বাংলা কি তোর বাপদাদার?’, ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই মাসের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করতে হবে। জনগণ সংস্কার বোঝে এবং চায়—এটাই সত্য। কে পিআর বোঝে বা বোঝে না, সে জন্য সংস্কার আটকে থাকবে না। নির্বাচন কমিশন ও দুদকসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিটি গঠন অবশ্যই প্রয়োজন। এ দুটি সংস্কার প্রস্তাবেই ঐকমত্য হলেই জুলাই ঘোষণাপত্র প্রস্তুত হবে।”
তিনি আরও ঘোষণা দেন, “আগামী ৩ আগস্ট আমরা শহীদ মিনারে জড়ো হব। সেদিন আমরা ‘জুলাই সনদ’ আদায় করব ইনশাআল্লাহ।”
রোহিঙ্গা ইস্যুতে এনসিপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের মানবিক সহানুভূতি আছে, তবে বছরের পর বছর তাদের বাংলাদেশে রাখা যাবে না। স্থানীয় জনগণ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির নেতৃবৃন্দ। দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আঁরা কী নোয়া সিস্টেম চাই কি না?” —এমন প্রশ্ন দিয়ে তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক এমপি আবদুর রহমানকে ‘ইয়াবা ব্যবসায়ী’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, “নোবেল পুরস্কারের লোভে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।”
সমাবেশে এনসিপির নেতারা বাংলাদেশে গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং গডফাদার-মাফিয়া দৌরাত্ম্যের অবসানের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।





