দেশে প্রসাধনী সামগ্রী, বিশেষ করে লিপস্টিক আমদানি ও বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো সরকারি নজরদারি নেই। ভারত, চীন, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব পণ্য অবৈধভাবে আমদানি হয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বাড়তি দামে। প্রশাসনের চোখের সামনে চলছে ভেজাল ও অতিমূল্যায়িত প্রসাধনীর রমরমা ব্যবসা। ফলে প্রকৃত ও বৈধ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না বলে অভিযোগ করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ঢাকার গুলশানসহ অভিজাত এলাকার বিভিন্ন কসমেটিকস আউটলেটে বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি হচ্ছে এসব আমদানিকৃত পণ্য। প্রকৃত মূল্য যেখানে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকা, সেখানে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে ১ থেকে ৫ হাজার টাকা। অথচ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে এসব পণ্যের বৈধ আমদানির কোনো রেকর্ড নেই।
সম্প্রতি সরেজমিনে গুলশানের একটি কসমেটিকস দোকানে গিয়ে দেখা যায়, একটি ব্র্যান্ডের লিপস্টিকের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ এবং মেয়াদ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত উল্লেখ করা আছে। ওই চালানের বিল অব এন্ট্রি নম্বর C-1285592 (তারিখ: ৮ জুলাই ২০২৫) অনুযায়ী আমদানি করা হয়েছে মাত্র ২ কেজি লিপস্টিক ও অনুরূপ পণ্য। ঘোষিত দাম—মাত্র ৪০ মার্কিন ডলার।
দেশীয় কসমেটিকস শিল্প উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানে বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলোর প্রায় সবই অবৈধভাবে বাজারে আসছে। এতে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি লিপস্টিকের গড় ওজন ৪ মিলি হলে ১ কেজিতে পাওয়া যায় প্রায় ২৫০টি লিপস্টিক। আমদানি খরচ ও ১৫৭ শতাংশ শুল্ক যোগ করেও প্রতিটি লিপস্টিকের সর্বোচ্চ দাম দাঁড়ায় ৫০ টাকা ১৬ পয়সা। অথচ একই পণ্য গুলশানের ‘সুন্দরা’ আউটলেটে বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৭০০ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি পিস লিপস্টিকে অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৬৫০ টাকা—যা ভোক্তা প্রতারণার স্পষ্ট উদাহরণ।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘সুন্দরা’র গুলশান আউটলেটের কর্মীরা বলেন, তারা কেবল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করেন। নিজেরা দাম নির্ধারণ করেন না এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ভাঙারও কোনো সুযোগ নেই তাদের।





