নারীস্বাস্থ্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট দাবি করে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার বলেন ‘যেখানে নারী ও শিশুদের সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা থাকবে। নারীরা ফার্স্ট ক্লাস সিটিজেন, তাদের চিকিৎসাও হতে হবে সেই মর্যাদার সঙ্গে।’
রোববার (২৫মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ আবু সাইদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘ইলেক্ট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং’ গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক সায়েবা জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করা সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি আমাদের সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি-শুধু একজন অবস্ট্রাকটিভ অনকোলজিস্ট হিসেবে না, বরং একজন বাংলাদেশি নারী হিসেবে। আমাদের দেশে নারী স্বাস্থ্য বিষয়ে যতই আমরা মুখে বলি, বাস্তবতা হলো-এখনো এটি অনেকাংশে অবহেলিত। সেখানে মেয়েদের এতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বিষয়গুলোর প্রতি সরকার যে নজর দিয়েছেন এবং অদ্যাবধি সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
বিএমইউকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বনে, ‘বিএমইউ কর্তৃপক্ষ যে ব্রেস্ট ও সারভাইক্যাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে আমি এই উদ্যোগের সফলতা কামনা করি এবং সমর্থন জানাই।’ একইসঙ্গে বিএমইউ যাতে এ বিষয়ে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সে জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
নারী স্বাস্থ্যের জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট সময়ের দাবি
ডা. সায়েবা আক্তার বলেন, ‘দেশে মেডিসিন ও সার্জারির বিভিন্ন বিষয়ে ইতোমধ্যে ১৮টি ইনস্টিটিউট গড়ে উঠেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নারী স্বাস্থ্যের জন্য এখনো কোনো বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অথচ আমাদের নারীরা মাসিক, গর্ভাবস্থা, প্রসবকালীন জটিলতা, মেনোপজ, প্রজনন স্বাস্থ্য, হরমোনজনিত সমস্যা, স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যানসারসহ নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিয়ে যান-যা পুরুষদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়। সুতরাং নারী স্বাস্থ্যের জন্য একটি আলাদা ইনস্টিটিউট সময়ের দাবি।’
নারীস্বাস্থ্যে প্রতিবন্ধকতা
বিএমআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশে এখনো মেয়েদের চিকিৎসা নিতে গেলে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। সামাজিক ট্যাবু, আর্থিক সংকট এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা-সেবার অভাব নারীদের স্বাস্থ্যসেবার আওতার বাইরে রেখে দেয়। তাই প্রয়োজন এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে নারীরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন-যেখানে থাকবে নারী চিকিৎসক, নারীদের উপযোগী প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত সেবা।’
তিনি আরও বলেন, ‘জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার কোনো একজন নারীর একক লড়াই নয়- এটি পুরো পরিবারের যুদ্ধ। যখন একজন নারী ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তখন শুধু তিনি নন-তার সন্তান, স্বামী, পরিবার- সবাই ভোগে। আমরা মাতৃমৃত্যুর কথা বলি, যা অনেক সময় হঠাৎ ঘটে, কিন্তু ক্যানসার আক্রান্ত নারীরা ধীরে ধীরে, দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রণায় ভোগেন। এই যুদ্ধে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক- তিনটি দিকেই সংগ্রাম করতে হয়।’
তিনি সকলকে নারীস্বাস্থ্য ও ক্যানসার প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং নারীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট গঠনে সরকারের সহায়তা প্রত্যাশা করেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলমের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদসহ আরও অনেকে।





