তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘কান’ যুদ্ধবিমান প্রকল্প এখন শুধু দেশটির প্রতিরক্ষা ইতিহাসে নয়, বরং বিশ্ব সামরিক শিল্পেও একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। নিজস্ব সম্পদ, গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই স্টেলথ যুদ্ধবিমান তুরস্কের স্বাধীন ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।

২০২৩ সালে শুরু হওয়া ‘কান’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল—বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে আনা এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে একটি দেশীয় বিকল্প তৈরি করা। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই তুর্কিশ অ্যারোস্পেস ইনকর্পোরেটেড (TAI) তিনটি প্রোটোটাইপের কাজ শেষ করেছে। এর মধ্যে দুটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আকাশে উড়বে বলে জানানো হয়েছে।

‘কান’ প্রকল্পকে শুধু একটি বিমান তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে না তুরস্ক। বরং এটি দেশটির জাতীয় মর্যাদা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ যুদ্ধবিমান নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে সর্বাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তি, যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি কেবল তুরস্কের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তাকেই শক্তিশালী করবে না, বরং দেশটিকে উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন অস্ত্র রপ্তানিকারক হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হবে।

এদিকে ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে—তারা এই যুদ্ধবিমান ৪৮টি কিনতে চায়। এছাড়াও সৌদি আরব, পাকিস্তান, আজারবাইজানসহ বেশ কয়েকটি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে ‘কান’ প্রকল্পে বিনিয়োগ ও পার্টনারশিপে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান নিজেই এ প্রকল্পের নামকরণ করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, জাতীয় পর্যায়ে ‘কান’ কতটা গুরুত্ব বহন করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘কান’ প্রকল্প শুধু একক একটি যুদ্ধবিমান নয়—এটি তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীলতার দিগন্ত উন্মোচন করছে। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মধ্যেও তুরস্ক এমন একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যারা নিজস্ব সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী শক্তিতে আধুনিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম।

সংক্ষেপে বললে, ‘কান’ যুদ্ধবিমান হচ্ছে তুরস্কের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা। এটি শুধু রণক্ষেত্রে নয়, কূটনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার ময়দানেও দেশটিকে নিয়ে যাচ্ছে আরও উঁচু স্থানে।