আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোটাররা যাতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই এই প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য।


শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি জানায়, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা হবে এবং সারাদেশে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে বিজিবি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্বে থাকবে।


ঝুঁকি বিবেচনায় সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। প্রতিটি উপজেলায় ২ থেকে ৪টি প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।


নির্বাচনকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি) এবং হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত থাকবে, যারা প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বিশেষায়িত কে-নাইন ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন থাকবে।


ঢাকার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান জানান, নির্বাচনকে ঘিরে কোনও মহল যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেই জন্য ঢাকা সেক্টরের অধীনে ১৩৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। বিজিবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং কোনো ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি নেই।


তিনি আরও জানান, এবার প্রথমবারের মতো তল্লাশিতে বিশেষ প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‌্যাপিড কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স প্রস্তুত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে আকাশপথে সহায়তার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে।


বিজিবি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ক্যামেরাসহ অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জাম, যা নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।