ঋণ খেলাপি হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারালেন বগুড়া-১ (সোনাতলা–সারিয়াকান্দি) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। উচ্চ আদালতের সর্বশেষ রায়ে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি হিসেবে সাব্যস্ত করায় নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

জানা গেছে, বেসরকারি দুটি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না করায় কাজী রফিকুল ইসলাম প্রায় ৭৬৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি ঋণ পরিশোধ না করে উচ্চ আদালত থেকে একটি স্থগিতাদেশ নেন। ওই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন তাকে সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখানো না হয়।

তবে গত ৮ জানুয়ারি এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিট করলে উচ্চ আদালত কাজী রফিকুলের পক্ষে দেওয়া আগের আদেশ স্থগিত করেন। ফলে তিনি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন।

এর আগে ঋণ খেলাপিসহ হলফনামায় নানা অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। এতে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি এলাকার বিএনপির নেতাকর্মী এবং ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

আদালতের সর্বশেষ রায়ের খবরে এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি প্রকাশ পেয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৬ সালের পর কাজী রফিকুল দীর্ঘ সময় এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন এবং দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে পাওয়া যায়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি মাত্র দুই দিন এলাকায় অবস্থান করে ফিরে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের আরও দাবি, ডেভেলপার ব্যবসার আড়ালে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি ব্যাংক ঋণ ও জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। যদিও গণমাধ্যমে তার ঋণ খেলাপির পরিমাণ ৭৬৫ কোটি টাকা বলা হলেও এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত অঙ্ক আরও বেশি।

ঋণ খেলাপি, হলফনামায় অসঙ্গতি এবং অন্যান্য অভিযোগে কাজী রফিকুলের প্রার্থীতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আদালতের রায়ে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি ঘোষণা করায় এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ও উৎফুল্লতা লক্ষ্য করা গেছে।