আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সংস্কার সনদ বিষয়ক গণভোট পর্যবেক্ষণে কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বড় পরিসরের পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে। ঢাকায় প্রাপ্ত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হচ্ছে।

কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেল শার্লি বচওয়ে চলতি মাসের শুরুতে লন্ডনে ঘোষণা দেন, ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আড্ডো ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন। এই দলে রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, লিঙ্গসমতা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের নেতৃত্বে ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের একটি সচিবালয় দল তাদের সহায়তা করবে।

২১ জানুয়ারির এক বিবৃতিতে কমনওয়েলথ জানায়, নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না—তা স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করাই পর্যবেক্ষক দলের মূল দায়িত্ব। বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানদণ্ডে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেই আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তারা প্রতিবেদন দেবে।

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলে রয়েছেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহদ রাজিসহ অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, কানাডা, ফিজি, মরিশাস, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, উগান্ডা, যুক্তরাজ্য ও জাম্বিয়ার প্রতিনিধিরা।

এদিকে কমনওয়েলথের ঘোষণার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিশ্চিত করেছে, ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডা থেকে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনে (ইইউ ইওএম) অংশ নেবেন। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস।

ইইউ ইওএম-এ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরও অন্তত সাতজন সদস্য থাকবেন। তারা ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ সফর করবেন। এই মিশনের কার্যক্রম শুরু হয় ২৯ ডিসেম্বর একটি কোর টিমের আগমনের মাধ্যমে। এতে ১১ জন বিশ্লেষকসহ লজিস্টিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন, যারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার আইনি, রাজনৈতিক, নির্বাচনী ও গণমাধ্যম সংক্রান্ত সব দিক পর্যবেক্ষণ করছেন।

এছাড়া ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের সব প্রশাসনিক বিভাগে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক। নির্বাচন দিবসে কূটনৈতিক মিশনে নিয়োজিত পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের মাধ্যমে মিশনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

ইইউ জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ আচরণবিধি অনুসরণ করবেন এবং নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বজায় রেখে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবেন।

সরকারের পক্ষে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সফর সমন্বয়ে সহায়তাকারী সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মরশেদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এটি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ প্রায় দুই হাজার প্রার্থী ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই সঙ্গে জুলাই সংস্কার সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।