গবেষণা ও আবাসন সংকটে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার নিয়ম ভেঙে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে ৯ লাখ টাকায় ৯টি এসি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাজেট ঘাটতির মধ্যে এমন উদ্যোগে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম।
প্রশাসন সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে রাজস্ব বাজেট থেকে এসি স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়। সে সময় কোষাধ্যক্ষ বিদেশে থাকায় দায়িত্বে ছিলেন উপ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ। পরে দেশে ফিরে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর জানান, তার অনুপস্থিতিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি ছুটিতে থাকা অবস্থায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, কোন নিয়মে তা হয়েছে জানি না। আমি থাকলে অবশ্যই প্রশ্ন তুলতাম। সবকিছু জবাবদিহির মধ্যে থাকা উচিত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সংকট নিয়ে প্রশাসন আগেই উদ্বেগ জানিয়েছে। গবেষণা বরাদ্দ কমে গেছে, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন সংকট প্রকট, এমনকি পার্টটাইম শিক্ষকদের সম্মানিও সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, প্রথমে অনুমোদন না পেলেও ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বারবার যোগাযোগ করে চাপ দেন। পরে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ পুনরায় ফাইল এনে অনুমোদন দেন।
উপ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘আমি শুধু রুটিন দায়িত্বে ফাইল ফরওয়ার্ড করেছি, অনুমোদন করিনি। উপাচার্য অনুমোদন দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটের মধ্যে শিক্ষার উন্নয়ন হলে আমি সহনশীল, কিন্তু “ফ্যান্সি” কিছু দেওয়া সমর্থন করি না। শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদাই যখন অপূর্ণ, তখন এসি বসানো ঠিক নয়।’
সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী, জরুরি বা দুর্লভ পণ্যের ক্ষেত্রেই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করা যায়। তবে এসি কেনার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম মানা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা (বিদ্যুৎ) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ডাকসু থেকে চাওয়ার পর প্রশাসন অনুমোদন দিয়েছে। গ্রি কোম্পানির ৯টি এসি বসানো হচ্ছে। সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে।’
হিসাব দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বাজেটে ডাকসুর জন্য মোট বরাদ্দ ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভবনের সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনে খরচ হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এসি স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা, সাউন্ড সিস্টেমে ৭১ হাজার এবং পানির ফিল্টারে ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা।
এ ছাড়া আসবাব, পর্দা, নতুন ওয়ার্কস্টেশন, কক্ষ সংস্কার, রং, শৌচাগার, সাইনবোর্ড ও অন্যান্য সরঞ্জামে আরও কয়েক লাখ টাকার কাজ চলছে, সবই ডিপিএম পদ্ধতিতে। ডাকসু ভবনে নামাজঘর নির্মাণের প্রস্তাবও প্রক্রিয়াধীন।
ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ডাকসু নেতারাই সরাসরি প্রশাসনের কাছে এসি চেয়েছেন। বরাদ্দ দিয়েছে প্রশাসন, আমার মাধ্যমে কিছু হয়নি।’
উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আমি খোঁজ নিচ্ছি, অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে। যদি নিয়মবহির্ভূত কিছু হয়ে থাকে, তা যাচাই করা হবে।’
অন্যদিকে, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম চাপ প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ডাকসু ভবনের অবস্থা খারাপ ছিল, শুধু দ্রুত কাজের পরিবেশ তৈরি করার কথা বলেছি, এসির বিষয়ে আলাদা করে কিছু বলিনি।’
জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা সংস্কারকাজ তদারকি করেছি, কিন্তু বিলাসিতা চাইনি। বাজেট না থাকায় আমরা নিজের উদ্যোগে সিসিটিভি বসিয়েছি। নতুন কেনার বদলে পুরোনো জিনিসই সংস্কার করে ব্যবহার করছি।’





