ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরান যুদ্ধ ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আদালতের নির্ধারিত এক হাজারের সীমা অতিক্রম করে। তবে আগের তুলনায় এবার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের তেমন বাধা দেয়নি।


একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, বিচারব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ এবং অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির প্রস্তাবের প্রতিবাদে বামপন্থি গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সংগঠন টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো এ কর্মসূচি পালন করে।


বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক আলন লি গ্রিন দাবি করেন, তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। তবে অন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যম অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজার বলে উল্লেখ করেছে, যা নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ। বিক্ষোভকারীরা আরবি ভাষায় ‘শান্তি, স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার’ স্লোগান দেন।


গত ছয় সপ্তাহে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির আদালত বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সীমিত করে দেয়। যদিও গত সপ্তাহে অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা শিথিলতা আনা হয়, তবুও সতর্কতার জন্য সীমা বজায় রাখা হয়েছে।


একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ডানপন্থি নেতা মোরদেচাই ডেভিডের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী বিক্ষোভস্থলে ঢোকার চেষ্টা করলে আয়োজকরা তাদের বাধা দেন। পরে সীমান্ত পুলিশ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়, যদিও তিনি অন্য পথ দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তাকে ও আরেক কর্মীকে আটক করা হলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হয়।


এদিকে জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ারেও শত শত মানুষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়। সেখানে পুলিশ লাইন অতিক্রমের অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পরে জরিমানা করে ছেড়ে দেয়। হাইফাতেও শতাধিক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়, যদিও সেখানে আদালত সর্বোচ্চ ১৫০ জনের সীমা নির্ধারণ করেছিল। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


তেল আবিবের সমাবেশে আলন লি গ্রিন অভিযোগ করেন, সরকার একটি স্থায়ী জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ রাখছে এবং ‘অভ্যুত্থানমূলক আইন’ পাসের সুযোগ করে দিচ্ছে।


অন্যদিকে, আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল হাদাশের প্রধান আইনপ্রণেতা আয়মান ওদেহ বলেন, বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো নৈতিক বিকল্প তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ নয়—শান্তির জন্য ইহুদি-আরব অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। তার মতে, দুর্বল বিরোধী দলগুলোর কারণে কার্যকর বিকল্প গড়ে উঠছে না এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে একমাত্র নৈতিক পথ হলো শান্তি।