কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আলু চাষ কমিয়ে অন্য সবজি চাষে ঝুঁকছেন। এতে চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন কমার আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। এর প্রেক্ষিতে সরকার আলু চাষিদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।


\r\n

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীন বলেন, “এবার আলুর চাষ কম হওয়ার দুই প্রধান কারণ হলো—এক, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকের আগ্রহ কমে যাওয়া; দুই, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী আলু চাষ কমিয়ে অন্যান্য সবজি, যেমন বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ ১০ ধরনের সবজি চাষের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো সবজির অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।”


\r\n

ড. জামাল উদ্দীন আরও বলেন, “দেশে আলুর চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টন হলেও গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন। অতিরিক্ত উৎপাদিত বেশিরভাগ আলু রপ্তানি হচ্ছে না, কারণ এসবে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহৃত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর যোগ্য নয়। তবে সানসাইন, গ্র্যানোলা, ডায়মন্ড, ম্যাজেস্টিক, প্রাডা, সান্তানা, কুইন এ্যানি, কুম্বিকা, ডোনেটা ও বারি আলু-৬২ জাতের আলু রপ্তানি করা হচ্ছে।”


\r\n

বাংলাদেশ আলু রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি ফেরদৌসী বেগম বলেন, “উচ্চমানের আলুর ঘাটতির মধ্যেও বিএডিসি-এর সানসাইন জাতের আলু রপ্তানি বাজারে ভালো ফল দেখাচ্ছে। বিদেশে আলুর চাহিদা প্রচুর, রপ্তানিকারকরা তা পূরণে কাজ করছে।”


\r\n

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩২,৩৯২ মেট্রিক টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬২,৭২৬ মেট্রিক টন এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫১,৭৬৩ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হয়েছিল। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রপ্তানি থেকে আয় ছিল ৩৩ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে, যা পরবর্তী কয়েক বছরে ১০ মিলিয়ন ডলারের আশেপাশে নামেছে।


\r\n

সচিবালয়ে কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আলুর উৎপাদন বাড়লেও চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাননি। এজন্য সরকার আলু চাষিদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে।”