প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পেশাদার খেলোয়াড়দের কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা হলে’ আয়োজিত ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও অন্যান্য দেশের মতো এগিয়ে যাবে। দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা এবং টিম স্পিরিট থাকলে কেউ ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনে বাধা হতে পারবে না।”


তারেক রহমান বলেন, “‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই অঙ্গীকারের সঙ্গে আমরা ক্রীড়াঙ্গনকে আমূল পরিবর্তন করতে চাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ক্রীড়া দর্শনের কথাও স্মরণ করি। তিনি আধুনিক ক্রীড়া কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা বর্তমান সরকার আরও আধুনিকায়ন করে দেশের প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।”


প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সারাদেশে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করার কার্যক্রম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু হবে। এছাড়া ২০২৭ সাল থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।


তিনি তরুণ ক্রীড়াবিদদের ‘নতুন বাংলাদেশের সোনালি প্রহরের অগ্রদূত’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ, সরকারি আর্থিক নিরাপত্তা এবং পূর্ণাঙ্গ ‘ক্রীড়া শিল্প’ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও সাফ গেমসে বিশ্বজয়ী হতে পারবে।


অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ক্রীড়া কার্ড একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার ও শিক্ষক নিয়োগ এবং বিভাগীয় শহরগুলোর সাতটি বিকেএসপি শাখাকে পূর্ণাঙ্গ বিকেএসপিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড বিতরণ করেন। অনলাইনের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা পৌঁছে যায়। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের আর্থিক পুরস্কারও প্রদান করা হয়। একক পর্যায়ে স্বর্ণজয়ীদের ৩ লাখ, রৌপ্যজয়ীদের ২ লাখ এবং ব্রোঞ্জজয়ীদের ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। দলগতভাবে বিজয়ীদের যথাক্রমে ২ লাখ, দেড় লাখ ও ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়াভাতার অংশ হিসেবে প্রত্যেককে মাসে এক লাখ টাকা প্রদান করা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে ক্রিকেটাররা ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় এর বাইরে থাকবেন।


অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য অতিথিরা।