ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দেশটির সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন পোপ লিও এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে কথার লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি পোপ লিও’র সমালোচনা করে দাবি করেন, গত দুই মাসে ইরানে অন্তত ৪২ হাজার নিরস্ত্র বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে—এমন একটি দেশের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকা বিপজ্জনক।

এর আগে তিনি পোপ লিও-কে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যর্থ’ বলেও আক্রমণ করেন। প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ হিসেবে পরিচিত পোপ লিও সম্প্রতি ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এর জবাবে পোপ জানান, তিনি কোনো চাপকে ভয় পান না এবং যুদ্ধবিরোধী অবস্থান বজায় রাখবেন।

এদিকে, ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ইরান সরকার যেখানে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহতের কথা বলছে, সেখানে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি প্রায় ৭ হাজারের বেশি। অন্যদিকে, জাতিসংঘের বিশেষ দূত মাই সোটো নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন।

তবে পারমাণবিক ইস্যুতে ট্রাম্পের আশঙ্কার বিপরীতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।