আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ গুছিয়ে আনছে বিএনপি। প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী বাছাই করে রাখার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা সারা দেশের প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো আসনভিত্তিকভাবে শক্তিশালী প্রার্থী তালিকা তৈরি করা।”

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এক আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল। তখন দলটির নেতারা জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ আমলে প্রার্থিতা বাতিলের ঝুঁকি মাথায় রেখে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছিল, যাতে কোনো আসন বিএনপিশূন্য না হয়।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও একই কৌশল গ্রহণ করছে দলটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে দুই শতাধিক আসনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। জোটের কারণে কিছু আসন ছাড়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এক আসনে একাধিক প্রার্থী রাখলেও ঐক্যের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা চাই দলের ভেতরে ঐক্য থাকুক, জাতির ভেতরে ঐক্য থাকুক। জাতির ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কেউ যেন বিভেদের পথে না যায়, সেটাই আমাদের মূল বার্তা।”

তিনি আরও জানান, আন্দোলনে থাকা সব রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রিত করে বিএনপি নতুন একটি বৃহত্তর জোট গঠন করবে। “আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে নিয়ে আমরা বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ব,” বলেন তিনি।

দেশের তরুণ সমাজকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করতে বিএনপির পরিকল্পনার কথাও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “আমরা সারা দেশে সফর করে তরুণদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা সংগ্রহ করেছি। সেই ভাবনা থেকেই আমরা কর্মসূচি প্রণয়ন করছি, যাতে আগামী দিনে একটি তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়।”

এ সময় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।