মিস ইউনিভার্সের ৭৪তম আসরে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন খ্যাতিমান মডেল ও সমাজকর্মী নাহিন আইয়ুব। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি ইতিহাস গড়তে চলেছেন, যা ফিলিস্তিনের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী ২১ নভেম্বর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য এবারের প্রতিযোগিতায় ১৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিযোগী অংশ নেবেন। নাহিনের অংশগ্রহণের খবর নিশ্চিত করে মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা তাকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
২৭ বছর বয়সী এই ফিলিস্তিনি সুন্দরী ২০২২ সালে মিস প্যালেস্টাইন খেতাব অর্জন করেন। তিনি কেবল একজন মডেলই নন, বরং একজন মানবিককর্মী হিসেবেও সুপরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থেকে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে নাহিন বলেন,
“গাজাসহ পুরো ফিলিস্তিন যখন চরম মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আমি তখন তাদের কণ্ঠস্বর হতে চাই, যারা নীরব থাকতে রাজি নন। প্রতিটি ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুর প্রতিনিধিত্ব করতেই আমি মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে যাচ্ছি। তাদের শক্তি ও সাহস গোটা বিশ্বের দেখা উচিত।”
বিশ্বের ১৪৫টিরও বেশি দেশ ইতোমধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নাহিন আইয়ুবের এই অংশগ্রহণ শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের আত্মপরিচয় ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠছে।
এবারের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় ফিলিস্তিনের অংশগ্রহণ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে এ পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
নাহিন আইয়ুবের এই ঐতিহাসিক অংশগ্রহণকে ফিলিস্তিনি জনগণ ‘আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের সংগ্রামের এক শান্তিপূর্ণ প্রতিচ্ছবি’ হিসেবে দেখছেন।





