ইবি প্রতিনিধি: কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পক্ষে ফেসবুকে নিয়মিত প্রচারণার অভিযোগে সাগর আহমেদ নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রকে থানায় সোপর্দ করে শিক্ষার্থীরা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের  শিক্ষার্থী।
 
শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবন এলাকা থেকে তাকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় তাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় হস্তান্তর করা হয়।


জানা যায়, অভিযুক্ত সাগর দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী মতাদর্শের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে বিভিন্ন সময় পতিত সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পোস্ট দিতে দেখা গেছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠনের লকডাউন ও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন তিনি। সম্প্রতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ থেকে ‘নৌকা ছাড়া ভোট নয়’ শীর্ষক একটি পোস্টার নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে শেয়ার দেন সাগর। ওই পোস্টে তিনি ‘#NoBoatNoVote’ হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করেন।


এদিকে সকাল ৯টা থেকে তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা দিচ্ছিলেন সাগর। বেলা ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন শিক্ষার্থী ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এবং পরে জানতে পেরে পরীক্ষার হল থেকে তাকে আটক করতে যান। এসময় তারা মারধরের চেষ্টা করলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সাগরকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। এরপর তাকে ইবি থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাগর নিয়মিত আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও শেখ হাসিনার পক্ষে পোস্ট দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ১৩ নভেম্বর আ.লীগ ঘোষিত লকডাউন সফল করার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দেন এবং ‘নো নৌকা নো ভোট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন। তাদের দাবি, তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ছাত্রলীগের পদধারী।


তবে আটক শিক্ষার্থী সাগর আহমেদ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, “আমি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছি, এটা সত্য। আমার পরিবার আওয়ামী লীগ করে, কিন্তু আমি ও  আমার পরিবার আওয়ামী আমলেও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি কখনো ক্যাম্পাসে বা বাইরে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। পরীক্ষা দিতে আসতেই আমাকে আটক করা হয়েছে।\"


ইবি থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, \"সে বর্তমানে আমাদের হেফাজতে আছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।\"