লেবানন বৈরুত থেকে ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা শেইবানিকে বহিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তেহরান সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করে তাকে স্বপদে বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং জানিয়েছে, তিনি বৈরুতের ইরানি কূটনৈতিক মিশনে নিজের দায়িত্ব পালন করবেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার (৩০ মার্চ) রয়টার্সকে জানিয়েছেন, শেইবানিকে বৈরুতেই অবস্থান করতে হবে এবং তিনি যথারীতি দায়িত্ব পালন করবেন।
ইসরায়েল এই সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা’আর বলেন, ইরান লেবাননকে ‘উপহাস’ করছে, কারণ রাষ্ট্রদূত তার সময়সীমা পেরিয়েও বৈরুতে অবস্থান করছেন।
গত ২৪ মার্চ শেইবানিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করার কারণে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গের অভিযোগে বৈরুত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। লেবাননের পরবর্তীতে ২৯ মার্চ তাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি—যিনি ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ—রাষ্ট্রদূতকে স্বপদে থাকার আহ্বান জানান। এর ভিত্তিতে ইরান তাকে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষিতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালায়, যা লেবাননকে সরাসরি যুদ্ধে টেনে আনে। ইতোমধ্যে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম হিজবুল্লাহকে সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েলের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করেছে। তিনি সংগঠনটির সামরিক শাখা নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন।





