পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে দলটির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ প্রায় নিশ্চিত হয়েছে।
২০২০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির অন্যতম আলোচিত নেতা হিসেবে উঠে আসেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তার একাধিক বক্তব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পেট্রাপোল সীমান্তে এক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ না হলে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের কথাও বলেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে একাধিক জনসভায় বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। ভারতের সামরিক শক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সামরিকভাবে তুলনীয় নয়। এছাড়া বাংলাদেশে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ে মন্তব্য করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়ান তিনি।
ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে এক বক্তব্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ‘বৈধ প্রধানমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের কথাও বলেন।
২০২৫ সালের শুরুতে তার বক্তব্য আরও কঠোর হয়ে ওঠে। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারত চাইলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব দ্রুত বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে সক্ষম। পরে বারাসাতের এক সমাবেশে বাংলাদেশ-ভারত সংঘাত প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া বাংলাদেশে আলোচিত দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের আহ্বান জানান শুভেন্দু। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণাও দেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশকে ঘিরে শুভেন্দু অধিকারীর এসব বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।





