ভারতে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ঢাকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহকে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ঢাকায় ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র (আইভেক) বন্ধের ঘোষণা আসে। তবে ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভেক আজ বৃহস্পতিবার স্বাভাবিকভাবেই কার্যক্রম চালু রাখবে।
মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুই দেশের হাইকমিশনারকে তলবের ঘটনায় বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় মিশনকে ঘিরে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টির পরিকল্পনায় জড়িত কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডই এই তলবের মূল কারণ।
বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশে অবস্থানরত সব ভারতীয় মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৬ মাস ধরেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয়। এর মধ্যে ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনা এবং অভিযুক্তদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য সম্পর্ককে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে ভারতীয় মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে এবং এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশের উপদেশের প্রয়োজন নেই।
\r\nভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো কার্যকর ও কাজের সম্পর্ক বজায় রাখা। তবে দুই পক্ষের সমন্বয় ঘাটতির কারণেই বর্তমান টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। এ ক্ষেত্রে ভারতের কোনো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই, তবে সহযোগিতা চাইলে বাংলাদেশ তা বিবেচনায় নেবে।





