ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টিতে প্রধান শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়গুলো। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, অবসর ও বদলিজনিত কারণে ২০১৭ সাল থেকে এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ ফাঁকা রয়েছে।

সরেজমিনে বাঞ্ছারামপুর সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়ে প্রায় ৭৪০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সহকারী শিক্ষক দিয়েই প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানো হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রায়ই দাপ্তরিক কাজে উপজেলা অফিসে যেতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পাড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক নাসিমা আলম বলেন, “প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা দেখা দিয়েছে।”

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সেলিম রেজা বলেন, প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক শিক্ষক পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যাচ্ছেন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ জানান, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদের তালিকা জেলায় পাঠানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি।

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সামসুল আলম বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ২২৮ জন শিক্ষক জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যোগদান করবেন। সেখান থেকে বাঞ্ছারামপুরেও প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।