চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার আতুরার দীপু এলাকার চালিতাতলীর খন্দকারপাড়ায় বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলি করে হত্যা করা হয় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সরওয়ার হোসেন ওরফে বাবলাকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় অন্তত ৫০ জন অস্ত্রধারী, যাদের হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একে–৪৭ রাইফেলও।

\r\n


সূত্র জানায়, হামলাকারীরা এসেছিল রাউজানের পাহাড়ি এলাকা থেকে, যেখানে বড় সাজ্জাদের সহযোগীদের একটি সশস্ত্র দল অবস্থান করছে।

\r\n


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ওই গণসংযোগে স্থানীয়ের তুলনায় বহিরাগতদের উপস্থিতি ছিল বেশি। সাতটি মোটরসাইকেল ও একটি জিপে করে আসে হামলাকারীরা। জিপ গাড়িতেই ছিল ভারী অস্ত্র ও একে–৪৭। মসজিদসংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্টে আগেই অবস্থান নেয় তারা—কোথাও ৪–৫ জন, কোথাও ১০–১২ জন করে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি পুরো এলাকা ঘেরাও করে রাখে।

\r\n


গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাবলার ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে টানা ছয় রাউন্ড গুলি করা হয়। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

\r\n


\r\n

নিহত বাবলার ভাই মো. ইমরান খান আজিজ বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয় বড় সাজ্জাদের সহযোগী রাউজানের রায়হান, যে এক সপ্তাহ আগেই বাবলাকে খুনের হুমকি দিয়েছিল। গুলি শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় অনেকেই তাকে চিনে ফেলেছেন।

\r\n


আজিজ অভিযোগ করেন, “মিশন সফল হওয়ার পর সন্ত্রাসীরা রাউজানের পাহাড়ে ফিরে যায়। প্রশাসন জানে তাদের আস্তানা কোথায়, কিন্তু অভিযান হয় না। রাউজানের পাহাড় এখন সন্ত্রাসীদের আঁতুড়ঘর।”

\r\n


\r\n

চট্টগ্রাম উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার প্রতিটি দিক তদন্ত করা হচ্ছে। দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, প্রধান অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।”

\r\n


\r\n

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাবলা একসময় বড় সাজ্জাদের সহযোগী ছিলেন। তবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে সেই দ্বন্দ্বই রক্তাক্ত প্রতিশোধে রূপ নেয়। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকলেও সূত্র বলছে, সেখান থেকেই হত্যার পরিকল্পনা চালানো হচ্ছিল।

\r\n

২০১৭ সাল থেকেই হত্যার পরিকল্পনা

\r\n

তদন্তে জানা গেছে, বাবলাকে হত্যার পরিকল্পনা নতুন নয়। ২০১১ সালে একে–৪৭ রাইফেলসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে জামিনে বের হয়ে কাতারে যান বাবলা ও তার সহযোগী ম্যাক্সন। কাতারে সংঘর্ষে জড়ানোর পর সাজা শেষে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফেরত পাঠানো হয় বাবলাকে। দেশে ফিরে রাজনীতি ও ব্যবসায় যুক্ত হতে চাইলেও তখন রাউজানের নিয়ন্ত্রণ নেয় ছোট সাজ্জাদ।

\r\n

বাবলার ভাই আজিজ বলেন, “২০১৭ সাল থেকেই সাজ্জাদের টার্গেটে ছিল ভাই। জেল থেকে বের হয়ে ভালো হতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই চেষ্টাই তার জীবনের মূল্য দিতে হলো।”

\r\n

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ বলেন, বন্দিদের সাক্ষাৎ ও ফোনালাপ নিয়মমাফিক হয়। তবে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে যাতে কেউ নিয়ম ভেঙে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে।

\r\n

তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, কারাগারে থাকা অবস্থাতেও ছোট সাজ্জাদ বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ রেখে হত্যার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।