ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সোমবার ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে দলটি ৬৩টি আসন ফাঁকা রেখেছে। এসব আসনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে পরীক্ষিত জোটভুক্ত দলের নেতাদের। বিশেষ করে যেসব রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির পাশে ছিলেন, এমনকি ৫ আগস্টের পরও সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন, তাদের শীর্ষ নেতাদের জন্য কিছু আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে।


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীর গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “প্রায় ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যুগপৎ আন্দোলনে যারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাদের যে আসনে প্রার্থী দেবেন, সেই বিষয়ে সমন্বয় করা হবে। তবে এই আসনগুলোতে আমরা এখনই প্রার্থী ঘোষণা করিনি।”


ফাঁকা আসন ও সম্ভাব্য জোটভুক্ত প্রার্থী

চট্টগ্রাম-১৪ আসনে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুককে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আসনে বিএনপি এখনও কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।


বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না প্রার্থী হতে পারেন। এ আসনেও বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।

পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়া হতে পারে। রাশেদ খান, যিনি গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, ঝিনাইদহ-২ আসনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রাখছেন। এই দুটি আসনেও বিএনপি কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।


লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সমর্থন পেতে পারেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র সাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি জানিয়েছেন, তাকে আগে থেকেই মৌখিকভাবে বিএনপির উচ্চমহল থেকে সংকেত দেওয়া হয়েছে। তিনি এই আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন এবং আশা করছেন, বিএনপির সমর্থন তার ওপর থাকবে।


লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জেএসডির আসম আব্দুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এ আসনেও এখনো বিএনপি কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।


ঢাকা-১৭ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ এবং ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজ প্রার্থী হতে পারেন। বিএনপি এখনও এই দুটি আসন ফাঁকা রেখেছে।


ঝালকাঠি-১ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তিনি জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময়ে তারা বিএনপির পাশে থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং এখনো জোটসঙ্গী হিসেবে বিএনপির সঙ্গে রয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। এই আসনটিতেও বিএনপি কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।


তালিকাভুক্ত এসব আসনে বর্তমানে কেউ প্রার্থী হিসেবে নাম নেননি। দল নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জানিয়েছে, ফাঁকা আসনগুলোতে সম্ভাব্য জোটভুক্ত নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে মনোনয়ন দেওয়া হবে। এছাড়া কিছু আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থীর মধ্যে কে বিজয়ী হতে পারে তা যাচাইয়ের জন্যও আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে।


জোটভুক্ত নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাদের সমর্থন হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সম্ভব হবে। এসব উদ্যোগ মূলত দলীয় সমন্বয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার করার জন্য নেওয়া হয়েছে।