ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট শরিকদের জন্য ১৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে এসব আসনের অন্তত ১২টিতে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়া নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠে থাকায় জোট প্রার্থীরা পড়েছেন বড় চাপে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে থাকায় এসব নেতাকে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিএনপি এবং অনেককেই বহিষ্কার করা হয়েছে। তবু তৃণমূল পর্যায়ে তাদের প্রভাব কমেনি।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৭০টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা কার্যত বিভক্ত। কেন্দ্রীয় নির্দেশে পদধারী নেতারা জোট প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করলেও সাবেক নেতা ও সাধারণ কর্মীদের বড় অংশ বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে রয়েছেন। কোথাও কোথাও বহিষ্কারের ভয়ে প্রকাশ্যে না গিয়ে নীরব সমর্থনও দিচ্ছেন অনেকে। এতে জোট প্রার্থীরা বিএনপির পূর্ণ সাংগঠনিক সহায়তা পাচ্ছেন না।


বিএনপি নেতৃত্ব বহিষ্কার, কমিটি স্থগিত-বিলুপ্তিসহ কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিলেও অনেক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তৃণমূলের শক্ত ভরসায় প্রচার চালাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই বিভক্তি শেষ পর্যন্ত জোট প্রার্থীদের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।


ঢাকা-১২ আসনে গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের বিপরীতে বিএনপির সাবেক মহানগর নেতা সাইফুল আলম নীরব স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকির সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা সাইদুজ্জামান কামাল। পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের বিপক্ষে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হাসান মামুনের প্রার্থিতা জোটের জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে।


এ ধরনের পরিস্থিতি নড়াইল-২, কিশোরগঞ্জ-৫, যশোর-৫, কুমিল্লা-৭, সিলেট-৫, ঝিনাইদহ-৪ ও হবিগঞ্জ-১সহ একাধিক আসনে দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে তৃণমূলের বড় অংশ থাকায় নির্বাচনী সমীকরণ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।


তবে বিএনপি নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয়ভাবে ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীদের পক্ষে জোরালো প্রচারণা, তারেক রহমানের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা এবং প্রকাশ্য সমর্থনের ফলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ঘুরছে। দলের মতে, শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীরা প্রান্তিক হয়ে পড়বেন এবং তৃণমূল জোট প্রার্থীদের দিকেই ঝুঁকবে।


তবুও ভোটের মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি বিএনপির মিত্রদের জন্য এখনো ‘গলার কাঁটা’ হয়েই রয়ে গেছে।