বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্র দলগুলোর নির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এখন এটি আগামীকাল শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।


সূত্র জানায়, বিএনপি নেতাদের ব্যস্ততা এবং যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতার অনুপস্থিতির কারণে বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।


মিত্র দলগুলো থেকে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তবে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত নেতাদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি উপস্থিত হতে পারেননি। বিএনপি নেতারা রাত ৮টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শনিবার বেলা ১১টায় বৈঠক করে বিষয়গুলো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।


রাশেদ খান বলেন, “বৈঠকটি পিছানোর কারণ হলো যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়। অনেকেই উপস্থিত থাকতে পারছিলেন না, তাই বিএনপি শনিবার বৈঠক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”


তিনি আরও জানান, বিএনপিসহ ৪০টির বেশি দল ২০২২ সাল থেকে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। নিপীড়ন, রিমান্ড ও নির্যাতন সব কিছু সহ্য করার পর এখন প্রত্যেক দলেরই আশা রয়েছে, বিশেষ করে নির্বাচন সামনে।


রাশেদ বলেন, “বিএনপি ইতোমধ্যেই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে, এবং শরিকরাও দলগতভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এখন মূল আলোচনা হবে, কতটি আসন শরিকদের জন্য রাখা হবে। আমরা সঠিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত আশা করি।”


শরিকরা যদি কাঙ্ক্ষিত আসন না পায়, সম্পর্ক ভাঙার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা কখনো বিএনপিকে শর্ত দিইনি যে আসন না পেলে লড়াই বন্ধ হবে। আমাদের লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনার পতন। ৩১ দফা ও জাতীয় সরকারের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আমরা একসঙ্গে লড়াই করেছি। সবকিছু আলোচনা করেই সমাধান হবে।”


তিনি শেষ করেন, “কতটি আসন পাব তা এখন বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা বিএনপির সঙ্গে আছি এবং থাকব।”