ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ঘোলামহোসেন মোহসেনি এজেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িতদের শাস্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। খবর প্রকাশ করেছে জিও নিউজ।

চলতি মাসের শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানের অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং দেশজুড়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরেছে।

মোহসেনি এজেই বলেন, জনগণ ন্যায্যভাবেই দাঙ্গা, সন্ত্রাস ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ কঠোরতা অনুসরণ করা হবে।

তার ভাষায়, যারা অস্ত্র হাতে নিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছে কিংবা অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে—তাদের প্রতি কোনো ধরনের দয়া দেখানো হবে না।

ইরান সরকার জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। সরকারের দাবি, বাকি নিহতরা দাঙ্গাকারী এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানিতে সহিংসতায় জড়িয়েছিল।

এদিকে, বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কিছুটা নরম সুরে কথা বলেছেন এবং দাবি করেছেন, তেহরান আপাতত পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রেখেছে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোস থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে একটি বড় নৌবহর পাঠাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্ত হয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, ইরানের বিশেষ পুলিশ বাহিনীর কমান্ডার কর্নেল মেহদি শরিফ কাজেমি দাবি করেছেন, বিক্ষোভ দমনে পুলিশ কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেনি। তিনি বলেন, অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও বাস্তবে আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োগ করা হয়নি; জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল পানি কামানের মতো অপ্রাণঘাতী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।