কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাথরুম বিক্রির অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার সরকারি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিষয়টি নিয়ে জেলার নানা মহলে চলছে বেশ আলোচনা সমালোচনার ঝড়। 

জানাযায়, সাম্প্রতি বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ভবন বিক্রির জন্য টেন্ডার হয়। সেই ভবন বিক্রি কমিটির আহবায়ক ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার, সদস্য সচিব ছিলেন কুমারখালী সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মোদক ও সদস্য ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হক। 

তবে টেন্ডার পরবর্তী সেটি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির পুরাতন ভবন ভাঙ্গা শুরু করলে প্রতিষ্ঠানের পাশে বড় একটি বাথরুম গোপনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

টেন্ডার সূত্রে জানা যায়, টেন্ডারে কোথাও বাথরুমসহ ভবন বিক্রির বিষয় উল্লেখ না থাকলেও প্রধান শিক্ষক তা সয়ং বিক্রি করে বসে আছেন বহাল তবিয়তে, আর বাথরুম বিক্রির করে নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে বিক্রির টেন্ডারের নথি চাইলে কমিটির আহবায়ক ফোন করে বলে দিয়েও তিনি দেখাননি এই প্রতিবেদককে। লুকিয়েছেন কাগজও।

এছাড়ও এবিষয়ে সাংবাদিকদের আনাগুনা শুনে পুরাতন ভবনের ভাঙ্গা ৮০০পিচ ইট রেখে দিয়ে বাথরুমের ইট বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টাও চালাচ্ছেন ওই প্রধান শিক্ষক। 

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মোদক জানান, বাথরুমটি পুরাতন ছিল তাই তাদের দিয়ে দিয়েছি। ভাংতে অনেক খরচ হতো এতে প্রতিষ্ঠান উপকৃত হয়েছে।

তবে এটি আইন মেনে হয়েছে কিনা?  ম্যানেজিং কমিটি জানে কিনা?   টেন্ডারে ছিল কিনা এমন প্রশ্নের কোন কোন উত্তর তিনি দিতে পারেন নি।
রেজুলেশনও করা নেই বলে জানান তিনি।

একটি প্রতিষ্ঠানের এমন ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির আহবায়কের কাছে তিনি জানান, শুধু মাত্র পুরাতন একটি ভবন বিক্রির কথা ছিল। বাথরুম বিক্রির কোন বিষয় উল্লেখ ছিলনা।  আমি শুধুমাত্র ভবন বিক্রির বিষয়টা জানি। 

এবিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুমারখালী সরকারি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমারও জানা নেই আপনাদের মাধ্যমেই জানছি। তবে তিনি যদি বাথরুমও বিক্রি করে থাকেন তাহলে অবশ্যই সেটি নিয়ম বহির্ভূত কাজ করেছেন প্রধান শিক্ষক। আমি দ্রুতই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিব।