পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পানির উচ্চতা ছিল ১২.৭৯ মিটার। বুধবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৮৯ মিটার, যা বিপদসীমার মাত্র এক সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ধরা হয়েছে ১৩.৮০ মিটার।
এদিকে গড়াই নদীতে মঙ্গলবার দুপুরে পানির উচ্চতা ছিল ১১.২৫ মিটার। আজ তা বেড়ে ১১.২৭ মিটার হয়েছে। বিপদসীমা এখানে ১২.৭৫ মিটার।
চিলমারী ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচু এলাকা মানিকের চরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। এতে গ্রামবাসীরা পানিবন্দি হয়েছেন। উঠতি মরিচ, পাট ও ধান তলিয়ে গেছে, পাশাপাশি অনেক রাস্তাঘাটও প্লাবিত হয়েছে।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, “নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত না হলেও সবাই পানিবন্দি। কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।”
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানিয়েছেন, নদীর ওপারে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। “তাদের অধিকাংশই পানিবন্দি। ঘরবাড়িতে এখনও পানি ওঠেনি, তবে মাঠের আবাদি ফসল ডুবে গেছে।”
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, “চরের দুই ইউনিয়নের ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকিগুলো সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, “বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুরের বহু রাস্তাঘাট ও স্কুল প্লাবিত হয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।”
পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুজ্জামান জাহিদ জানিয়েছেন, “পদ্মা ও গড়াই নদীতে প্রতিদিন পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে তা কতদিন অব্যাহত থাকবে তা বলা যাচ্ছে না।”






