বিশ্ব বর্তমানে এমন এক জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে, যা ১৯৭০-এর দশকের তেলের ধাক্কা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব মিলিয়েও বেশি গুরুতর বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান।
অস্ট্রেলিয়ায় এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অতীতের বড় জ্বালানি সংকটগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি দুইটি বড় তেল সংকট এবং একটি গ্যাস সংকট একসঙ্গে ঘটার মতো।
বিরোল জানান, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার কারণে বিশ্বে তেলের সরবরাহ দিনে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল কমে গেছে।
এটি ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের তেল সংকটের সময়কার মোট ঘাটতির দ্বিগুণেরও বেশি।
অন্যদিকে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমেছে প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ঘনমিটার, যা ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেখা দেওয়া ঘাটতির তুলনায় অনেক বেশি।
এছাড়া এই সংঘাতে অন্তত ৯টি দেশের ৪০টির বেশি জ্বালানি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইইএ প্রধান সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই সংকটের সমাধান হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের নীতিনির্ধারকরা শুরুতে সংকটের গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি।
সংস্থাটি ইতোমধ্যে জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে- দূর থেকে কাজ বা রিমোট ওয়ার্ক বাড়ানো,একাধিক ব্যক্তি মিলে গাড়ি ব্যবহার করা
মহাসড়কে গতিসীমা কমানো।
বিরোল বলেন, প্রয়োজনে আরও কৌশলগত তেল মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, কারণ বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
উত্তেজনা ও মূল্যবৃদ্ধি
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
ইরান পাল্টা হুমকি দিয়েছে, প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাতে পারে।
বর্তমান জ্বালানি সংকট শুধু একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান এবং জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।





