আজ ২২ শ্রাবণ, বাংলা সাহিত্যের মহান পুরুষ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৪তম প্রয়াণবার্ষিকী। ১৯৪১ সালের এই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন, রেখে যান সাহিত্য, সংগীত, শিল্প ও চিন্তার এক বিশাল ভান্ডার, যা আজও বাঙালি জীবনের প্রেরণা ও পথনির্দেশক।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর ১৫ সন্তানের মধ্যে ১৪তম। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুরবাড়িতে তার জন্ম। মাত্র আট বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেন তিনি। কৈশোর-যৌবনের বিভিন্ন সময়ে পিতার নির্দেশে নদীয়া, পাবনা, রাজশাহী, ওড়িশা অঞ্চলের জমিদারি দেখাশোনার কাজে যুক্ত হন এবং কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কুঠিবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটান। এই সময়েই তিনি ঘনিষ্ঠভাবে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে যুক্ত হন, যা তার সাহিত্যকর্মে গভীর প্রভাব ফেলে।
১৯০১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে প্রতিষ্ঠা করেন এক নতুন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা পরবর্তীতে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে তার এই উদ্যোগ ভারতবর্ষে এক অনন্য নজির হয়ে আছে।
তার সাহিত্যজীবন ছিল বিস্ময়করভাবে উর্বর। জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ১৩টি উপন্যাস, ৩৮টি নাটক, ৩৬টি প্রবন্ধ সংকলন এবং অগণিত গান। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি পৌঁছে গেছেন বিশ্বসাহিত্যের কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯১৩ সালে \"গীতাঞ্জলি\" কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি পান সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার—এই সম্মান অর্জনকারী তিনিই প্রথম এশীয়।
তার রচিত গান শুধু সাহিত্যসৌন্দর্যের প্রতীক নয়, হয়ে উঠেছে জাতির চেতনার অংশ। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁরই রচনা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তার গান বাঙালির অনুপ্রেরণা ও সাহসের বাতিঘর ছিল।
বিশ্বকবির প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হচ্ছে নানা আয়োজন। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণানুষ্ঠান। ছায়ানট আয়োজিত এ আয়োজনে কবিগুরুর গান, কবিতা ও বক্তৃতার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে তাঁর চিন্তা ও দর্শনের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা।
এ ছাড়া আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে একটি সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রবীন্দ্র-গবেষক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি, দর্শন ও আদর্শ বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে যেমন করেছে সমৃদ্ধ, তেমনি বিশ্বদরবারে দিয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল পরিচয়। ২২ শ্রাবণ তাই শুধু শোকের নয়, গভীর শ্রদ্ধা ও চেতনার পুনর্জাগরণের দিন।





