প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী সরাসরি বিশ্বকাপে ওঠায় ব্রাজিলকে কোনো ঝুঁকি নিতে হয়নি। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। এ বাছাইপর্বে তাদের পারফরম্যান্স নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আজ (বুধবার) ভোরে প্রতিপক্ষ বলিভিয়ার মাঠে শেষ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪১৫০ মিটার উচ্চতায় খেলতে গিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ছন্দহীন খেলেছে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গুইমারেস প্রতিপক্ষ ফুটবলারকে ফাউল করলে বলিভিয়া পায় পেনাল্টি, যা ব্যবহারে গোল হয় মিগুয়েল আনহেল টারসেরোসের। সেই গোল ১-০ ব্যবধানে ব্রাজিলের হার নিশ্চিত করে।
এর আগে চিলিকে ৩-০ গোলে হারানোর পর দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে দুই নম্বরে ছিল ব্রাজিল। আজকের হারের পর তারা পাঁচে নেমে গেছে। বাছাইপর্ব শেষে ১৮ ম্যাচে ৮ জয়, ৪ ড্র ও ৬ হারে ব্রাজিলের পয়েন্ট ২৮। সমান পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে গোল ব্যবধানের কারণে এগিয়ে রয়েছে। শীর্ষে আর্জেন্টিনা ৩৮ এবং দ্বিতীয় স্থানে ইকুয়েডর ২৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইয়ে ব্রাজিলের সফলতা ৫১ শতাংশ, যা তাদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। ২০০২ সালের আগে সর্বনিম্ন সাফল্য ছিল ৫৫.৬ শতাংশ। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী শীর্ষ ছয় দল সরাসরি মূলপর্বে উঠায় ব্রাজিলের জন্য কোনো ঝুঁকি ছিল না।
বাছাইপর্বে ব্রাজিলকে নানা চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয়েছে। কোচ পরিবর্তন, দলীয় ফর্মহীনতা ও বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিতে, ফার্নান্দো দিনিজ ও দরিভাল জুনিয়রদের কোচিংয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত ফর্ম ফিরিয়ে আনতে পারেননি। অবশেষে ব্রাজিলের স্থায়ী বিদেশি কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। মার্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের হার ছিল ব্রাজিলের বাছাইপর্বে সবচেয়ে বড় পরাজয় এবং প্রথমবার তারা নিজেদের মাঠে হেরেছে।
১৯৯৬ সাল থেকে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ১০ দল হোম-অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে খেলছে। এর আগে ব্রাজিল কখনও ৩০ পয়েন্টের নিচে নামেনি। ২০০২ সালের বাছাইয়ে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে কঠিন চেষ্টা করে যোগ্যতা অর্জন করেছিল, যদিও সেই বিশ্বকাপের শিরোপা শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে চলে গিয়েছিল। ২০১৪ সালে আয়োজক হওয়ায় ব্রাজিলকে বাছাইপর্ব খেলতে হয়নি।





