বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অবরোধের হুমকির পর সোমবার বাজার খুলতেই তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়।

বাজার খোলার পরই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৬ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের শঙ্কা জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের ইঙ্গিত এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এ রুটে যেকোনো বাধা বৈশ্বিক সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, অবরোধ কার্যকর হলে দৈনিক প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল বাজার থেকে হারিয়ে যেতে পারে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষণ সংস্থা রিস্ট্যাড এনার্জি ও আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ১১০ ডলারের ওপরে উঠতে পারে এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে।

অন্যদিকে শুক্রবার বাজারে কিছুটা পতন দেখা গেলেও নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ ঝুঁকির কারণে সেই স্থিতিশীলতা দ্রুত ভেঙে যায়।