গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) প্রভাষক নিয়োগে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. সোহল হাসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগ পেতে ‘খুশি’ করতে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় এক প্রভাষকপ্রার্থীকে।

অভিযোগপত্রে ওই প্রার্থী জানান, তিনি পরিসংখ্যান বিভাগে প্রভাষক পদে আবেদন করেন। নিয়োগ পরীক্ষার আগে প্রো-ভিসির দেওয়া একটি নম্বরে যোগাযোগ করলে নিজেকে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) পরিচয় দেওয়া আব্দুল্লাহ আল তোফায়েল আল আহমদ জানান, চাকরি পেতে হলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে বিভিন্নভাবে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয় এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যায় তাকে ক্যাম্পাসে ডেকে নেওয়া হয় এবং সেখানে অর্ধেক টাকা অগ্রিম ও বাকি টাকা নিয়োগপত্র পাওয়ার পর দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিষয়টি কাউকে না জানাতে সতর্কও করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

সম্প্রতি ডাকযোগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগটি পাঠানো হয়েছে বলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন ওই নিয়োগপ্রার্থী।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহল হাসান। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ওই প্রার্থী ভুল বুঝে অভিযোগ করেছেন এবং পরে লিখিতভাবে ক্ষমাও চেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

নিয়োগপ্রার্থী ও প্রো-ভিসির সাক্ষাতের বিষয়ে ড. সোহল হাসান বলেন, প্রার্থী তাকে সালাম দিতে এসেছিলেন, তিনি শুধু লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেছেন। এর বাইরে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তার দাবি।

জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো অভিযোগটি কয়েকদিন আগে প্রো-ভিসির হাতে পৌঁছায়। এরপর অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য প্রার্থীকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ বা ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি অভিযোগ তুলে নিতে ইউজিসিতে আরেকটি আবেদন করেন।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে ওই নিয়োগপ্রার্থী বলেন, তিনি অভিযোগ তুলে নিয়েছেন এবং আর কিছু বলতে চান না। তবে তিনি স্বীকার করেন, অভিযোগপত্রটি তিনি নিজে লেখেননি, শুধু স্বাক্ষর করেছেন। অভিযোগপত্রে দেওয়া তারিখও ব্যাকডেটেড বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানকে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত বলে ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগে প্রভাষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমান প্রশাসন শুধুমাত্র প্রেজেন্টেশন ও ভাইভার মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন ও সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত তিন মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে এই সময়ে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের প্রশ্নই ওঠে না। তবে তিনি অভিযোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না বলেও জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রথমে সুপারিশ, পরে রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদন এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ইউজিসির চাওয়া ব্যাখ্যা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পিএস আব্দুল্লাহ আল তোফায়েল আল আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।